কোরিয়ান এয়ার কিনবে ১০৩টি বোয়িং

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ চুক্তির আওতায় মার্কিন শিল্প খাতে বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া, যার আকার ৩৫০ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ চুক্তির আওতায় মার্কিন শিল্প খাতে বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া, যার আকার ৩৫০ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার কোটি ডলার। এছাড়া বোয়িং থেকে ১০৩টি জেট কিনবে কোরিয়ান এয়ার। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।

এ চুক্তির আওতায় গঠিত ৩৫০ বিলিয়ন ডলার তহবিলের লক্ষ্য হলো কৌশলগত মার্কিন শিল্পগুলোয় অর্থায়ন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাটারি, চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো খাত। এছাড়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য ১৫০ বিলিয়ন বা ১৫ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

চুক্তির আওতায় অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাইয়ের বিনিয়োগ ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার ঘোষণা। এছাড়া স্যামসাংয়ের জাহাজ নির্মাণ শাখা একটি মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করবে, যার মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে।

চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের মধ্যে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত একটি শীর্ষ বৈঠকের পর ঘোষিত হয়। যদিও এ চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এর পেছনে ছিল কিছু জটিল প্রেক্ষাপট। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা চুক্তির অন্যতম একটি চালিকাশক্তি ছিল।

চুক্তির আওতায় কোরিয়ান এয়ার ১০৩টি বোয়িং জেট কেনার জন্য ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার খরচ করবে। উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭৩৭, ৭৭৭ ও ৭৮৭ মডেলের যাত্রীবাহী জেট ও আটটি ৭৭৭-৮ কার্গো।

কোরিয়ান এয়ারের প্রধান ওয়াল্টার চো বলেছেন, ‘চুক্তিটি তাদের উড়োজাহাজ বহরকে আধুনিক করতে ও বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে।’

অন্যদিকে বোয়িং জানিয়েছে, এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তবে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এ বিনিয়োগ থেকে ৯০ শতাংশ মুনাফা নেবে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, তহবিলটির বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঋণ ও নিশ্চয়তা (গ্যারান্টি) হিসেবে ব্যবহার হবে, সরাসরি মালিকানা (ইকুইটি) বিনিয়োগ হিসেবে নয়।

নতুন শুল্কনীতির মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্যকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন। তার চাপে পড়ে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বড় অংকে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে কেনাকাটা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও